আজ ৯ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৩শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

ক্ষেতলালে গৃহবধুকে হত্যার অভিযোগ, ২ জন আটক

মুহাম্মদ আমানুল্লাহ আমান, ক্ষেতলাল (জয়পুরহাট) প্রতিনিধিঃ জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে যৌতুকের বলি হলেন ফরিদা খাতুন (২৫) নামের এক গৃহবধু। তাকে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী, শ্বশুর ও শাশুরীর বিরুদ্ধে। গতকাল শনিবার ভোর ৪টায় ক্ষেতলাল পৌর এলাকার বুড়াইল গ্রামের আঃ গফুরের ছেলে সোহেল রানা (২৮), তার বাবা আঃ গফুর (৫০), মা হাজেরা ওরফে শিরিনা (৪৫) মিলে নিজ বাড়ীতে এ ঘটনা ঘটায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শ্বশুর আঃ গফুর ও শ্বাশুরী হাজেরাকে আটক করে পুলিশ। এলাকাবাসীর দাবী ফরিদাকে তারা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। পুলিশের দাবী আত্মহত্যার প্ররোচনা করেছে তার পরিবারের লোকজন। সরেজমিনে জানা গেছে, গত সাত বছর আগে একই গ্রামের মোফাজ্জল মন্ডলের মেয়ে ফরিদা খাতুনকে প্রতিবেশি আঃ গফুরের ছেলে সোহেল রানার সাথে বিয়ে দেয়। সোহেল স্থানীয় একটি কোল্ডস্টোরেজে কাজ করে। তাদের কোল জুরে আসে একটি কন্যা সন্তান ছালেহা (২)। বাবার বাড়ী থেকে যৌতুক হিসেবে দিয়েছে এক খন্ড জমি, নির্মান করে দিয়েছে ইটের পাকা বাড়ী। তাতে ও আশা পূরণ হয়নি স্বামী-শ্বশুর ও শ্বাশুরী হাজেরা ওরফে শিরিনার। প্রায়ই বিভিন্ন অজুহাতে তার উপর চলত শারীরিক ও মানষিক নির্যাতন। ওই গৃহবধুকে হত্যার পর শনিবার ভোর ৪টায় তার স্বামী ও পরিবারের লোকজন চিৎকার দিয়ে বলেন, ফরিদা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। প্রতিবেশিরা তাদের চিৎকার শুনে বাড়ীর ভিতরে গিয়ে দেখতে পায়, ওই গৃহবধূকে মৃত অবস্থায় ঘরের ভেতর খাটের উপর শুইয়ে লেপ দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে । এ নিয়ে এলাকায় গুণঞ্জন শুরু হলে গৃহবধুর স্বামী সোহেল পালিয়ে যায়। ঘটনাটি ক্ষেতলাল থানায় জানালে পুলিশ ঘটনা স্থলে গিয়ে ওই গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য জেলা হাসপাতালে পাঠায় এবং ঘটনাস্থল থেকে তার শ্বশুর আঃ গফুর ও শ্বাশুরী হাজেরাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে। এ বিষয়ে ওই গৃহবধুর বাবা মোফাজ্জল মন্ডল বাদী হয়ে ক্ষেতলাল থানায় পেনাল কোর্ড ৩০৬/৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করেন। জানা যায়, ওই গৃহবধূ নির্যানত সহ্য করতে না পেরে গত শনিবার বিকেলে তার প্রতিবেশি এক ভাবিকে বলেন, আমার বাবা বাড়ী করার জন্য যে জায়গাটুকু আমার নামে দলিল করে দিয়েছে সেই জমি আমার শ্বশুর-শ্বাশুরী ও স্বামীর নামে লিখে দিতে বলে। আমি না দিতে চাইলে তারা আমার উপর বিভিন্ন সময় নির্যাতন করে। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি তাদের কে ওই বাড়ীর জমি দলিল করে দিয়ে দু’চোখ যে দিকে যায় সে দিকে চলে যাব। এরই মধ্যে কাল রাতে তার স্বামী ও পরিবারের লোকজন তাকে হত্যা করে। এ বিষয়ে ক্ষেতলাল থানার ওসি নিরেন্দ্রনাথ মন্ডল বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার শ্বশুর-শ্বাশুরীকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পরই জানা যাবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা। অভিযুক্ত স্বামী পলাতক রয়েছে, তাকে ধরার জন্য চেষ্টা চলছে।

Leave a Reply

     এই বিভাগের আরও খবর