আজ ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৯শে নভেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

চরমোনাইতে নবম শ্রেণির ছাত্র সাকিব হত্যার আসামিরা(৪৮) দিনেও ধরাছোঁয়ার বাইরে।

নিজেস্ব প্রতিবেদন: চরমোনাই ইউনিয়নে নবম শ্রেণির ছাত্র সাকিবের লাশ উদ্ধার হলেও (এক মাস আঠারো দিন) শেষেও কেনো আসামির আটক করতে পারেন নি পুলিশ প্রশাসন। অঝোরে কাঁদছে ভুক্তভোগী পরিবার। বরিশাল সদর উপজেলা চরমোনাই ইউনিয়ন ৬নং ওয়ার্ড রাজারচর এলাকার চরকান্দা গ্রামের বাসিন্দা মোঃ আনোয়ার খান এর পুত্র মোঃ সাকিব গত (৩অক্টোবর)২০২১ তারিখে সন্ধ্যা আনুমানিক ০৬: ৩০ ঘটিকা সময় বাসা থেকে বের হলে আর ঘরে ফিরে আসেন নায়। তার পরের দিন মা,বাবা,ভাই বোন মিলে আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে খোঁজাখুঁজি করে তার সন্ধান না পাওয়ায় (৪ অক্টোবর) ২০২১ তারিখ বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী এন্ট্রি করেন আনোয়ার খান যাহার জিডি নং ১৮২। নিখোজের তিনদিন পরে চরমোনাই ইউনিয়নের রাজারচর এলাকার বট তলা আলাউদ্দীন হাওলাদার এর বাড়ির পিছনে সুপারী বাগানের ঘেরের পাশে সাকিবের লাশ দেখে স্থানীয়রা ডাক চিৎকার দিলে সবাই ছুটে আসে এবং এলাকার একব্যক্তি মুঠোফোনে কল দিয়ে সাকিব এর পরিবারকে বলেন। ঘটনা স্থানে ছুটে আসেন সাকিবের মা মৃত দেহ দেখে পুলিশকে জানালে তাৎক্ষণিক পুলিশ ঘটনা স্থানে গিয়ে মৃত্যু সাকিবের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল হাসপাতালে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে লাশটি তার পরিবারের কাছে হস্তক্ষেপ করেন। মৃত সাকিবের লাশ তার বাড়িতে জানাজা শেষে সমপূর্ন করেন। ভুক্তভোগী পরিবার থেকে জানা যায়, একই এলাকার বাসিন্দা ভ্যান চালক রমজান সন্ধ্যার সময় বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পুলিশ রমজানকে আটক করে জিজ্ঞাসা করলে পরবর্তীতে রায়হান ও জাকিরের নাম প্রকাশ করলে তাদেরকেও আটক করেন পুলিশ জিজ্ঞাসা শেষে তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে ছেড়ে দিয়ে আমাদের কাজ থেকে সাক্ষর নেয়। আমরা জিজ্ঞেস করলে পুলিশ বলেন, এখন পর্যন্ত কাউকে সন্দেহ করতে পারেন নি। তবে সন্দেহ জনক ভাবে আমরা যাদের আটক করছি তাদেরকে জিজ্ঞাসা শেষে ছেড়ে দিয়েছি,আর অজ্ঞাতনামা একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে উক্ত ঘটনা তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।আরো বলেন,আমরা থানা সুত্রে কোনো আইনগত ব্যবস্থা না পাওয়ায় গত(৫ অক্টোবর) ২০২১ তারিখ মোকাম বরিশাল বিজ্ঞ মেট্রোপলিট ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালতে (ছয়জনের) নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী পরিবার। আসামী রমজান (১৬) পিতা সালাম হাওলাদার, জাকির মিয়া(৩৬) পিতা মৃত আবুল মিয়া,সালাম হাওলাদার (৪৫) পিতা মৃত মালেক হাওলাদার, হারুন হাওলাদার (৫০) পিতা মৃত কেরামত আলী, সর্ব সাং রাজারচর খান বাড়ী ও পারশবর্তী এলাকার বাসিন্দা মৃত সোহরাব মিয়ার পুত্র সামিম মিয়া (১৮) ও সাকিল হাওলাদার (২০) পিতা সবুজ হাওলাদার, উভয় সাং চাঁদপুরা ইউনিয়ন রায়পুরা গ্রামের বাসিন্দা। মামলা সুত্রে জানা যায়, ১নং আসামি রায়হান হাওলাদার (৩অক্টোবর) সন্ধ্যায় বাসায় থেকে ডেকে নিয়ে ২নং আসামি জাকির মিয়ার হাতে তুলে দেয়। জাকিরসহ ৩-৬ জনলোক তাকে আলাউদ্দীন হাওলাদার এর বাগানে নিয়ে মারধর করিয়াছে। উল্লেখ নামধারী আসামীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জন্য সদয় মর্জির্ হয়। স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, সন্দেহ জনক যাদের আটক করছিলো তাঁরাই মূল আসামি, এবং ঘটনার দিন স্থানীয় জনতা রমজানকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পুলিশের জিজ্ঞাসা শেষে ছেড়ে দেয় পুলিশ। আটককৃত আসামিদের ছেড়ে দেওয়া সেদিন থেকেই এলাকা ত্যাগ করেন। এঘটনার মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা এস,আই সাব-ইন্সপেক্টর(নিরস্ত্র) মোঃ নিজাম মাহমুদ বলেন, গত (৬ অক্টোবর)২০২১ তারিখে বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি অজ্ঞাতনামা মামলা করেন, তদন্ত চলমান আছে ভুক্তভোগী পরিবারের কাউকে সন্দেহ করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ সিদ্দিকুর রহমান (রাসু) মুঠোফোনে কল দিলে বলেন, আহত পরিবার ও স্থানীয় সুত্রে রমজান নামক একজনকে পুলিশের হাতে তুলে দিলে তাদেরকে জিজ্ঞেস করে আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নুরুল ইসলাম বলেন, একটি অজ্ঞাতনামা মামলা দায়ের করা হয়েছে, এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয় নি। তদন্ত চলমান ভুক্তভোগী পরিবার থেকে কাউকে সন্দেহ করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

     এই বিভাগের আরও খবর