আজ ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৯শে নভেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

‘আমাদের কুকুরের মতো পিটিয়েছে’, কাঁদতে কাঁদতে ছাত্রলীগ নেতার নালিশ

‘কেন্দ্র দখল করতে যাওয়া’ ছাত্রলীগ নেতাদের পেটানোর অভিযোগে র‌্যাব কর্মকর্তার কাছে কৈফিয়ত চাইলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা এ কে এম শামীম ওসমান। বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) বিকাল ৩টার দিকে এনায়েতনগর ইউনিয়নের ৬৯নং পশ্চিম মাসদাইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে। র‌্যাব কর্মকর্তাদের সংগে শামীম ওসমানের বাদানুবাদের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, ছাত্রলীগের দু’জন নেতা কেঁদে কেঁদে শামীম ওসমানের কাছে নালিশ করছেন। ছাত্রলীগ নেতা রিয়াদ শামীম ওসমানকে বলেন, ‘আমাদের কুত্তার মতো পিটিয়েছে’। তখন শামীম ওসমান উপস্থিত র‌্যাব কর্মকর্তাদের অভিযোগের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে সিদ্ধিরগঞ্জের র‌্যাব-১১ এর স্কোয়াড্রন লিডার এ কে এম মনিরুল আলম বলেন, ‘ওদেরকে মারি নাই স্যার। ওরা দেখেন এসব জিনিসপত্র নিয়ে (অস্ত্র, লাঠিসোটার দিকে ইঙ্গিত করে) এসেছে। ওখানে ককটেল আছে। তারা এখানেই ছিলো। আপনি সবাইকে জিজ্ঞাসা করেন।’

জবাবে শামীম ওসমান বলেন, ‘এখন নারায়ণগঞ্জ আপনি সামাল দেন। দেখি আপনি পারেন কি-না আর আমি পারি কি-না। আপনি ছাত্রলীগের জয়েন্ট সেক্রেটারিকে চোরের মতো মারবেন?’

র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, ‘আমি সর্বদা চেষ্টা করবো। ব্যাপারটা ওইরকম নয় স্যার। চোরের মতো পিটানো হয় নাই স্যার। তাদের প্রতিহত করা হয়েছে, এগুলো নিয়ে আসায়।

এই সময় সাংবাদিকেরা শামীম ওসমানের সংগে কথা বলতে চাইলে তিনি কিছু না বলেই চলে যান।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এনায়েতনগর ইউনিয়নের পশ্চিম মাসদাইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ইউপি সদস্য প্রার্থী শাহ জাহানের পক্ষ নিয়ে প্রভাব বিস্তারের জন্য শতাধিক সমর্থক নিয়ে যান নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ। তারা সেখানে বিশৃঙ্খলা তৈরি করেন। প্রতিপক্ষের সমর্থকদের ধাওয়ায় এবং পরে পুলিশ ও র‌্যাবের লাঠিচার্জে রিয়াদসহ কয়েকজন স্কুলের বাথরুমে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পুলিশ ও বিজিবির তৎপরতায় পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে রিয়াদ বের হয়ে যান। এই কিছুক্ষণ পরই ভোটকেন্দ্রের বাইরে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়।

ইউপি সদস্য প্রার্থী জাকারিয়া জাকির অভিযোগ করেন, ছাত্রলীগ নেতা রিয়াদ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী শাহজাহান মাতবরের পক্ষে সিল মারছিলেন।

ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ওপর লাঠিচার্জের ঘটনায় বিকাল ৩টার দিকে কেন্দ্রে যান শামীম ওসমান। সেখানে গিয়ে তিনি র‌্যাব কর্মকর্তাদের সংগে বাদানুবাদে জড়ান।

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার আফরোজা খাতুন একটি ইংরেজি দৈনিককে বলেন, একজন প্রার্থীর এজেন্টকে বের করে দেওয়া নিয়ে একটা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।

সূত্রঃ বিভি/এসএইচ/এমএস

Leave a Reply

     এই বিভাগের আরও খবর