আজ ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৯শে নভেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

অপরাধ দমনে বিসিপিআরটিএ’র ৫ দফা দাবি

অপরাধ দমনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৫ দফা দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ সেলফোন রিপেয়ার টেকনিশিয়ান অ্যাসোসিয়েশন (বিসিপিআরটিএ)।

রবিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে দাবি জানানো হয়।

দাবি গুলো হলো-
১। বাংলাদেশে মোবাইল ফোন মেরামত পেশাকে একটি স্বীকৃত টেকনিশিয়ান পেশা হিসাবে ঘোষণা ও একটি EIR based HLR (Home location Registration) And VLR.(Visitors Location Registration) blacklist Check System IMEI Registration database server website চালু করার আবেদন। যা ভারত, তুর্কিস্তান, ইকুয়েডর, চিলিসহ উন্নত দেশ গুলোতে চলমান। 

ওয়েবসাইটে হারিয়ে যাওয়া ফোনের IMEI তালিকা CHECK করতে পারবে যে কেউ এবং ফোন হারিয়ে গেলে অভিযোগ জমার অপশন থাকবে, এবং তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে blacklist দেখাবে ওয়েবসাইটে। এই ধরনের ওয়েবসাইট চালু হলে আমাদের টেকনিশিয়ানদের কাছে মেরামত করতে আসা ফোন খুব সহজেই টেকনিশিয়ান যাচাই করতে পারবে ফোনটি হারানো নাকি চোরাইকৃত।

২। অপরাধ বন্ধ ও অপরাধীদের নিরুৎসাহিত করতে পেশা উল্লেখ্য করে নতুন কঠিন আইন বাস্তবায়ন করতে হবে। আমাদের কারিগরি মেরামত শিল্পের কোন আইন না থাকায় ডিজিটাল আইন ২০১৮ এর কিছু ধারা ১৭/১৮/১৯/২০/২২/৩৫ এবং ফৌজদারী ৪২০ ও ১৮৬০ সালের পেনাল কোড- ৪১৩/৪৬৮/৪৭১ ধারা অনুযায়ী মেরামত পেশার যেকোন সংঘটিত অপরাধ বিচারকার্য হয়ে থাকে তা এ পেশার অপরাধ বন্ধে যথেষ্ট নয়।  

একটি অপরাধের শেষ স্বাক্ষী হতে পারে মুঠোফোন এবং আমাদের কারিগরি শিল্পের কিছু কাজে উক্ত ধারাগুলো সরাসরি বাধা প্রদান করে থাকে। 

আমাদের কারিগরি পেশার দ্বারা অপরাধ কার্যক্রম বন্ধ ও নিরুৎসাহিত করতে কারিগরি শিল্পের নতুন কঠোর আইন প্রনয়নের দাবি জানাচ্ছি। সেই সাথে যথাযথ নিয়ম মাফিক ব্যবহার বিধি তৈরী করে মোবাইল ফোন মেরামত শিল্পে ব্যবহার করা বক্স/ ডিভাইসের অনুমোদন প্রদান। কারণ এ সব বক্স সকল দেশে ব্যবহার করা হয় এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত।

৩। সাংগঠনিক কার্যক্রমের স্বীকৃতি। আমাদের কারিগরি শিল্পের উন্নয়নে পেশার সম্মান রক্ষায় যাতে অনভিজ্ঞ, অপ্রশিক্ষিত, অপরাধী চক্রের ব্যক্তিরা নীতিমালা বহির্ভূত এ কাজ করতে না পারে তাই বাংলাদেশ সেলফোন রিপিয়ার টেকনিশিয়ান এসোসিয়েশন প্রস্তাবিত সংগঠন উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে নির্ধারিত সময়ে রেজি: প্রদান করতে আপনার হস্তক্ষেপ কামনা করছি। আমাদের সংগঠনটি গ্রাহক কপির মাধ্যমে গ্রাহক সেবার নিশ্চয়তা প্রদান করবে এবং গ্রাহক টেকনিশিয়ানদের সেবার মান উল্লেখ্য করবেন গ্রাহকদের সেবার মান এর ভিত্তিতে সংগঠন সদস্যদের সম্মাননা সেবা না পেলে গ্রাহক অভিযোগ করতে পারবে সে অভিযোগ তদন্ত করে আমাদের সংগঠন দ্রুত ব্যবস্থা নিবে। পুলিশের সহযোগিতা করবে আমাদের গ্রাহক কপির তথ্য।

৪। RPL ব্যবস্থা।
বাংলাদেশে চলমান যে সকল RPL শাখা আছে তা আমাদের সারা বাংলাদেশের সকল টেকনিশিয়ানদের সার্টিফাইড করতে অপ্রোতুল। তাই বাংলাদেশে ৬৪ জেলায় RPL শাখা চালু করতে বিশেষ দাবি জানাচ্ছি। প্রশিক্ষক প্রয়োজনীয়তায় আমাদের মধ্যে থেকে অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ানরা এ কাজে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত থাকবে। বাংলাদেশে সকল টেকনিশিয়ান RPL সনদ পাইলে তারা বিদেশে এ পেশার মাধ্যমে বিদেশের শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারবে। বর্তমানে সারা বিশ্বের অন্যান্য দেশে মোবাইল ফোন মেরামত শিল্পের শ্রমবাজার ভারত ও পাকিস্তানের দখলে। তাই দ্রুত সনদ ব্যবস্থা চালু করলে এ দেশের ছেলেরা বৈদ্যাশিক মুদ্রা আয় করতে শ্রম বাজারে অবদান রাখতে পারবে।

৫। ক্ষুদ্র ঋণ সহযোগিতা:
নতুন প্রশিক্ষিত টেকনিশিয়ানকে তার ব্যবসা পরিচালনাসহ যেকোন টেকনিশিয়ানকে তার ব্যবসার উন্নয়ন করার জন্য স্বল্প সুদ বা ০% সুদে ঋণ সুবিধা প্রদান।

মানববন্ধন শেষে পরে সংগঠনটি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সম্মেলন কক্ষে প্রেস ব্রিফিং-এ সংগঠনের কার্যক্রম, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরা হয়।

Leave a Reply

     এই বিভাগের আরও খবর