আজ ১১ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৭শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’ স্মরণে পদযাত্রা বেনাপোলে শেষ

মোঃ আইয়ুব হোসেন পক্ষী,বেনাপোল প্রতিনিধি : সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে এগারোটায় যশোর প্রেসক্লাব থেকে পদযাত্রা শুরু হয়ে ঐতিহাসিক যশোর রোড হয়ে মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বেনাপোল চেকপোস্টে এসে শেষ হয়। হাঁটার পথে পথে ১১টি স্কুলে ৭১ স্মরণে গান ও কবিতা আবৃত্তি করা হয়। সুবাতাস এর আহ্বায়ক হাসান আহমেদ এ পদযাত্রার উদ্দেশ্য ও কর্মসূচী নিয়ে বেনাপোলে আলোকপাত করেন। এই পদযাত্রায় ৭ জন সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক কর্মী অংশ নেন। অন্য ৬ জন হলেন সাংবাদিক মাহমুদ এইচ খান, সিনেমা পরিচালক শাহিনুর আক্তার শাহীন, সংবাদকর্মী নিশাত বিজয়, শিক্ষার্থী মিঠুন চক্রবর্তী মাহি, শাখাওয়াত খান, মারজানা আক্তার।

সুবাতাস-এর আহ্বায়ক হাসান আহমেদ বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে কোটি বাঙালির পদযাত্রাকে স্মরণ করা। পাকিস্তানিদের বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ থেকে বাঁচতে যুদ্ধের শুরু থেকে এই সেপ্টেম্বর মাসেও বাংলাদেশ থেকে কোটি মানুষ যশোর রোড ধরে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছিলেন ভারতে। বাংলাদেশের শরণার্থীরা এই রোড ধরে ভারতে পাড়ি জমাচ্ছিল, তখন এই রোডটিই ছিল তাদের শুধুমাত্র বেঁচে থাকার স্বপ্ন পূরণের পথ। তাদের অনেকেই পথ চলার ক্লান্তি সহ্য করতে না পেরে ঢলে পড়েছিলেন মৃত্যুর কোলে। এই রাস্তার প্রতিটি ধূলিকণাও যেন সেই হাজারো শরণার্থীদের ক্লান্তি, দুর্ভোগ ও বয়ে বেড়ানো স্বপ্নের সাক্ষী।

তিনি আরও বলেন, সেসময় মার্কিন কবি গিন্সবার্গ শরনার্থীদের দুর্দশা দেখে লিখেছিলেন তা বিখ্যাত কবিতা ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’। যা বিশ্ব দরবারে বাঙালির সংগ্রামকে ফুটিয়ে তুলেছিল। তার উদ্যোগ দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে সেসময় আয়োজিত হয়েছিল ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’। পন্ডিত রবিশঙ্কর তার বন্ধু ব্যান্ড সম্রাট জর্জ হ্যারিসনকে নিয়ে নিউইয়র্কে পহেলা আগস্ট, ১৯৭১ সালে আয়োজন করেন কনসার্ট ফর বাংলাদেশ। সেসময় প্রায় ২ বছর ধরে বব ডিলান স্টেজ পারফর্ম করছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশের জন্য এই কনসার্টেই বব ডিলান গান, অ্যালেন গিন্সবার্গের সেই বিখ্যাত কবিতা ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’।

হাসান আহমেদ আরও বলেন, বিশ্ববাসীর সামনে যশোর রোডের ঘটনাপ্রবাহের অন্তরালে, বাংলাদেশে চলমান মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতা মূর্তমান হয়ে ওঠে। ইতিহাসে অন্যভাবে উঠে আসে এই যশোর রোড। এই গানকে পরবর্তীতে বাংলা অনুবাদ করে গেয়েছিলেন মৌসুমি ভৌমিক। যা বাঙালিকে নতুন করে জানিয়েছিল আমার মুক্তির ইতিহাসকে। নিশাত বিজয় বলেন, আমরা স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরের বাংলাদেশে সেই সময়কে স্মরণ করতে চাই। শ্রদ্ধা জানাতে চাই গিন্সবার্গকে, বব ডিলান, পন্ডিত রবিশঙ্কর, জর্জ হ্যারিসন, লিওন রাসেল, রিংগো স্টার, বিলি প্রেস্টন, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ও মৌসুমি ভৌমিককে। এই পদযাত্রার যা উদ্দেশ্য শরণার্থীদের নিজ দেশে ফেরাতে আন্তর্জাতিক তৎপরতা বৃদ্ধির দাবি, করোনাসহ ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে সচেতনতা ও নারী-শিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতার প্রতিবাদ।

Leave a Reply

     এই বিভাগের আরও খবর