আজ ১১ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

দেবহাটায় হাজার বিঘা জমি দখলের পর ভূমিহীনদের সন্ত্রাসী আখ্যা দিচ্ছে দখলচ্যুত ভূমিদস্যুরা

স্টাফ রিপোর্টার: দেবহাটার খলিশাখালিতে প্রভাবশালীদের থেকে প্রায় হাজার বিঘা জমি দখলের পর থেকে সেখানেই পরিবার পরিজন নিয়ে অবস্থানে রয়েছেন ভূমিহীনরা। এছাড়া বাসস্থানের জমি পাওয়ার আশায় দেবহাটা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকেও প্রতিদিন ভূমিহীনরা যুক্ত হচ্ছেন খলিশাখালিতে। এতে করে ক্রমশ সেখানে বাড়ছে ভূমিহীনদের সংখ্যা। বাচ্চা-বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ সবাই একসাথে খিচুড়ি রেঁধে সারছেন তিন বেলার খাবার, থাকছেন ঝুঁপড়িতে, করছেন সভা- সমাবেশও। একসুরে তুলছেন দখলকৃত জমি তাদের মধ্যে বন্দোবস্ত দিতে প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহনের দাবী।
দখল পরবর্তী প্রতিদিনের সভা-সমাবেশে ভূমিহীনরা বলছেন, ১৩’শ বিঘা জমি প্রজাদের জন্য রেখে ১৯৪৭ সালে ভারতে পাড়ি দেন ওই জমির সিএস মালিক ঈশ্বরচন্দ্র ঘোষের ছেলে চন্ডীচরণ ঘোষ। পরবর্তীতে তিনি এদেশে না ফিরে আসায় ওই জমি আইনানুযায়ী সরকারের অনুকূলে চলে যায়। কিন্তু উপজেলার কিছু প্রভাবশালী মিলে ওই জমির জাল বুনিয়াদ দেখিয়ে এসএ রেকর্ড ও পরবর্তী কাগজপত্র নিজেদের নামে করিয়ে নিয়ে ভোগদখল করে আসছিল। এসব প্রভাবশালীদের অধিকাংশের পরিবার কেবলমাত্র খলিশাখালির জমিতে শতশত বিঘার মৎস্য ঘের করে বর্তমানে কোটিপতি বনে গেছে।
তারা আরো বলেন, সরকারি সম্পত্তি জালিয়াতি করে ভোগদখলের মাধ্যমে দেশের ভূমিদস্যুরা দিনদিন কোটিপতি হচ্ছে আর সামান্য মাথা গোঁজার ঠাই না পেয়ে অসহায় ভূমিহীনরা পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। খলিশাখালির এই বিস্তৃর্ণ সরকারি জমি পাওয়ার অধিকার কেবলমাত্র ভূমিহীনদের। সরকার চাইলে এই জমিতে শতশত ভূমিহীন পরিবারের বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবে।
ভূমিহীনরা দখলকৃত ওই জমি রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা জীবন দিতে প্রস্তুত, কিন্তু ওই জমি প্রভাবশালী দখলদারকের অনুকূলে ফিরে যেতে দিবোনা। আমরা জমির দখল নেয়ার পর থেকে দখলচ্যুত প্রভাবশালীরা আমাদের হটাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন সময়ে অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে হামলা ও মামলার হুমকি দিয়ে আসছে। শুধু তাই নয়, প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের ম্যানেজ করতেও কোটি টাকার মিশনে নেমেছে তারা। খলিশাখালিতে অবস্থানরত অসহায় পরিবার গুলো ভূমিহীন, তারা সন্ত্রাসী নয়। অথচ এসব প্রভাবশালীরা প্রশাসনের বিভিন্ন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাদের কাছে এসব নীরিহ ভূমিহীনদের সন্ত্রাসী, অস্ত্রবাজ, জঙ্গিবাদের সাথে সম্পৃক্ত বলে আখ্যা দিয়ে ফয়দা লোটার চেষ্টা করছে।
তাদের কথায় বিভ্রান্ত না হয়ে বরং উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক ওই বিস্তৃর্ন সরকারি সম্পত্তি কন্ট্রোল ও ম্যানেজমেন্টের আওতায় এনে সেখানে অবস্থানরত প্রকৃত ভূমিহীনদের মাঝে বন্দোবস্ত দেয়ার জন্যও সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের প্রতি দাবী জানান ভূমিহীনরা।

Leave a Reply

     এই বিভাগের আরও খবর