আজ ১১ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

আফগানিস্তানে মানবিক সঙ্কট কাটাতে প্রয়োজন ৬০ কোটি ডলার- জাতিসংঘ

আফগানিস্তানে মানবিক সঙ্কট কাটাতে প্রয়োজন ৬০ কোটি ৬০ লাখ ডলার। এই সহায়তা চেয়ে আজ সোমবার জেনেভায় সহায়তা সম্মেলন আহ্বান করেছে জাতিসংঘ। বৈশ্বিক এই সংগঠনের হিসাবে আফগানিস্তানে তালেবানরা ক্ষমতা দখলের পর সেখানে এক ভয়াবহ মানবিক সঙ্কট এগিয়ে আসছে। এ জন্য প্রয়োজন কমপক্ষে ৬০ কোটি ডলার। এর খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে আরো বলা হয়েছে, গত মাসে তালেবানরা ক্ষমতা কেড়ে নেয়ার আগেই কমপক্ষে এক কোটি ৮০ লাখ মানুষ বেঁচে ছিলেন ত্রাণের ওপর ভিত্তি করে। এখন আফগানিস্তানে তীব্র খরা। জনগণের হাতে নগদ অর্থ নেই।

তাই খাবারেরও সঙ্কট দেখা দিয়েছে।

জাতিসংঘের কর্মকর্তারা এবং ত্রাণ বিষয়ক গ্রুপগুলো এসব সতর্কতা দিয়েছে। দেশটিতে পশ্চিমা সমর্থিত সরকারের পতন হওয়ার পর আকস্মিকভাবে শত শত কোটি ডলারের বিদেশি দান বন্ধ হয়ে গেছে। এমন অবস্থায় জাতিসংঘ তার কর্মসূচি চালিয়ে নিতে অধিক থেকে অধিক চাপে পড়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরাঁ বলেছেন, অর্থনৈতিকভাবে লড়াই করছে তার সংগঠন। তিনি শুক্রবার সাংবাদিকদের কাছে বলেছেন, আর্থিক সঙ্কট এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে, বর্তমানে নিজেদের কর্মীদের বেতনই দিতে সক্ষম হচ্ছে না জাতিসংঘ।

এ অবস্থার প্রেক্ষাপটে আজ সোমবার স্থানীয় সময় বিকালে জেনেভা সম্মেলন বসছে জাতিসংঘের। এতে যোগ দেয়ার কথা জাতিসংঘের শীর্ষ কর্তকর্তাদের। এর মধ্যে আছেন মহাসচিব গুতেরাঁ, রেডক্রসের প্রধান পিটার মুরার, জার্মান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেইকো মাস সহ কয়েক ডজন সরকারের প্রতিনিধির। জাতিসংঘ বলেছে আফগানিস্তান সমস্যা সমাধানে অতি দ্রুত প্রয়োজন ৬০ কোটি ৬০ লাখ ডলার। এর প্রায় এক তৃতীয়াংশ ব্যবহার করবে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি।

তারা আগস্টে এবং সেপ্টেম্বরে ১৬০০ আফগান নাগরিকের ওপর জরিপ চালিয়েছে। তাতে দেখতে পেয়েছে শতকরা ৯৩ ভাগ নাগরিক পর্যাপ্ত খাবার পাচ্ছেন না। এর মধ্যে বেশির ভাগেরই খাদ্য কেনার মতো অর্থ নেই। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির আঞ্চলিক উপপরিচালক অ্যাথিয়া ওয়েব বলেছেন, এখন সময়ের বিরুদ্ধে দৌড়াতে হচ্ছে। আফগানিস্তানে যেসব মানুষের খুব ভীষণভাবে প্রয়োজন তাদের জীবন রক্ষা করতে হবে। আক্ষরিক অর্থে আমরা ভিক্ষা করছি। আফগানিস্তানে খাদ্যের মজুদ একেবারে ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই ধারদেনা করে যাচ্ছি। অন্যদিকে জাতিসংঘের আরেকটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, শত শত স্বাস্থ্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার মুখে। এ অবস্থার বিরুদ্ধে তারা লড়াই করে যাচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয় দাতাদের সহায়তায়।

Leave a Reply

     এই বিভাগের আরও খবর