আজ ১১ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

আশাশুনির মা-সার্জিক্যাল ক্লিনিকে অপচিকিৎসায় প্রসূতি মায়ের মৃত্যু

বি এম আলাউদ্দীন, আশাশুনি প্রতিনিধি:
আশাশুনি উপজেলার কুল‍্যার মোড়ে ভুল অপারেশনের কারণে এক প্রসূতি মায়ের প্রাণ বিসর্জন দিতে হয়েছে। শারীরিক লাঞ্চনা, প্রতিবাদ মূখর স্বজনদের কান্না ও ধিক্কারে অপরাধ বোধের সৃষ্টি হলে অপরাধ ঢাকতে শেষ পর্যন্ত বড় অংকের টাকা গচ্চা দিয়ে তাৎক্ষণিক রেহাই পান ক্লিনিক মালিক তরুন কুমার মন্ডল। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ও অকালে ঝরে পড়া প্রসূতি মায়ের স্বজনরা জানান, বৈধ কাগজপত্র না থাকলেও মা-সার্জিক‍্যাল ক্লিনিকে দীর্ঘ দিন অপারেশসহ নানা চিকিৎসা প্রদান করা হয়ে আসছে। ক্লিনিকের বিরুদ্ধে অপারেশনের নামে রোগিদের ক্ষতির মূখে ঠেলে দেওয়া, স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বশীলদের চোখ ফঁাকি দিয়ে বা ভিন্ন কোন উপায়ে ক্লিনিক পরিচালনা করে আসতে সক্ষম হচ্ছে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। ফলে ক্লিনিকে ভুল অস্ত্রপাচারের ঘটনা, অবৈধ ভাবে ক্লিনিক পরিচালনাসহ নানা অভিযোগ বরাবর আসলেও তাদেরকে রুখা সম্ভব হয়নি। তাই অপরাধের পুনরাবৃত্তির কারণে শুক্রবার জীবন দিতে হলো প্রসূতি মাকে। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, কুল‍্যা ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামের সেলিম সরদারেরর স্ত্রী তহমিনা খাতুনের (২০) প্রসব বেদনা শুরু হয়। মা-সার্জিক্যাল ক্লিনিকের মালিকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার অভয়বানী শুনে তহমিনাকে শুক্রবার রাত্র ৮ টার দিকে ক্লিনিকে আনা হয়। ক্লিনিক মালিক তরুন রোগি দেখার পর প্রাথমিক পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে সিজার করার কথা বলেন। রোগির স্বজনরা ডাক্তারের কথায় আশ্বস্থ হতে না পেরে সাতক্ষীরায় নেওয়ার কথা বলেন। রোগির দু’পা ফোলা ছিল, শারীরিক দুর্বলতা ও রোগি ভয়ে কাপছিল। কিন্তু ক্লিনিক মালিক তরুন এতকিছুর পরও “সব দায়িত্ব আমার, আমি অপারেশন করাব” এমন বাক্য ছুড়ে রাত্র ১০ টার দিকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে তড়িঘড়ি করে প্রসূতির স্বজনদের ভুল বুঝিয়ে অপারেশন শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে যে, অভিজ্ঞ এ্যানাস্থেসিয়া ছাড়াই নিজেরাই রোগি অজ্ঞান করানোর কাজ করেন এবং ভুল অপারেশনের কারনে রোগির ব্লিডিং বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। তখন বাধ্য হয়ে এম্বুলেন্সযোগে রোগিকে সাতক্ষীরার একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে নেওয়া হলে তারা রোগি ভর্তি নেয়নি। তখন তারা রোগিকে সিবি হসপিটালে নেওয়া হলে রোগিকে মৃত্যু ঘোষণা করা হয়। মৃত্যুর খবর জানার পর উত্তেজিত স্বজনরা তরুন মন্ডলকে শারীরিক ভাবে লাঞ্চিত করতে থাকে। একপর্যায়ে তাকে রক্ষার জন্য সেখান থেকে একটি প্রাইভেটে করে দ্রুত গ্রামে ফিরিয়ে আনা হয়। মাতৃহীন সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুটির ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে বড় অংকের টাকার বিনিময়ে ক্লিনিক মালিককে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানাগেছে। খবর পেয়ে সাতক্ষীরা ও আশাশুনির অনেক সাংবাদিক শনিবার ক্লিনিকে গিয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করলে কিছু তথ্য দিলেও সুযোগ বুঝে ক্লিনিক মালিক তরুন কুমার গা ঢাকা দিয়ে আড়ালে চলে যান। কথিত ডাঃ তরুন কুমার সাংবাদিকদের বলেন, “আমি কেন? দেশের শতভাগ ক্লিনিকে লাইসেন্স নেই। আমি তো সবকিছুই ম্যানেজ করে ক্লিনিক পরিচালনা করে যাচ্ছি বলে তিনি দাবী করেন। স্থানীয়রা জানান, ক্লিনিকের বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ ও অপকর্মের ফিরিস্তি রয়েছে। ইতিপূর্বে মোবাইল কোর্টে তাকে সাজা দেওয়া হলে তিনি কারাবাস করেছেন। তারপরও অনিয়ম মাথায় নিয়ে পুনরায় যথারীতি ক্লিনিক চালান হচ্ছে। পাইকগাছা উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের কাটাবুনিয়া গ্রামের ক্ষিতীশ চন্দ্র মন্ডলের ছেলে ক্লিনিক মালিক তরুণ কুমার মন্ডল প্রায় ২০ বছর ধরে বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই ক্লিনিকটি চালিয়ে যাচ্ছেন। এব্যাপাওে সচেতন মহল ও এলাকাবাসি অবৈধ ক্লিনিক মালিক তরুণের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

     এই বিভাগের আরও খবর