আজ ১৯শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৩রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

আশাশুনিতে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ইউএনও নাজমুল হুসেইন খাঁনবি

এম আলাউদ্দীন আশাশুনি প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলায় পবিত্র ঈদ-উল আযহা উপলক্ষে উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের সম্মানিত সাধারণ জনগণের নির্বিঘ্নে ঈদ উৎসব পালনে সর্বদা তৎপর রয়েছে। ঈদ উপলক্ষে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নাজমুল হুসেইন খাঁন জানান, ঈদ মানে খুশি বা আনন্দ। ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের জন্য বছরে দুটি দিন ধার্য রয়েছে এই আনন্দ উৎসব করার জন্য। এর একটি ঈদুল ফিতর, অন্যটি ঈদুল আজহা। এর একটি আসে সংযমের বার্তা নিয়ে। অন্যটি আসে ত্যাগের মহিমা নিয়ে। বছরের এ দুটি দিন যেমন আনন্দ ও উৎসবের বার্তাবাহী তেমনি মানুষে মানুষে ঐক্য ও সহমর্মিতার বাণীও রয়েছে এর অন্তরে। মুসলমানেরা বিশ্বাস করে, এ দুই দিন একই সঙ্গে সৃষ্টিকর্তার অনুগ্রহ পাওয়ার সুযোগও করে দেয়। সংকট থেকে মুক্তির জন্য তাই এ দু’ দিন মুসলমানেরা প্রার্থনা করে।এ বছর ভয়াবহ দুর্যোগের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে মানুষ। সারা বিশ্বেই একই অবস্থা। এই বাস্তবতার মধ্যেই এসেছে ঈদুল ফিতর। দু’ মাস আগে যখন মহা আনন্দের এই দিনটি হাজির হয়েছিল, তখন কোথাও ছিল না কোনো উদযাপনের রং। শুধু প্রার্থনাই যেন সত্য হয়ে উঠেছিল। দু’ মাস পর পরিস্থিতির খুব একটা বদল হয়েছে বলা যাবে না। বরং আগের চেয়ে অনেক বেশি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে নাকাল হয়ে আছে বিশ্ববাসী। এখনো পর্যন্ত এই করোনা ভাইরাসের কোনো প্রতিষেধক মানুষ হাতে পায়নি। নেই কোনো ভ্যাকসিন। শুধু কিছু সুরক্ষা ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা মানুষের সম্বল। যতটুকু যা স্বাভাবিকতা ফিরে এসেছে, তার বেশির ভাগটাই এসেছে অভ্যস্ততার কারণে। দীর্ঘ দিন দুর্যোগের মধ্য দিয়ে যাওয়ার কারণে যে অভ্যস্ততা জন্ম নিয়েছে, তার মধ্যেই উদযাপিত হতে যাচ্ছে ঈদুল আজহা। পশু কোরবানির মাধ্যমে ত্যাগের মহিমাকীর্তন করা এই উৎসবের মাধ্যমে আবার সবাই এক জোট হওয়ার আশায় ছিল। কিন্তু সেই আশা এবারও পূরণ হওয়ার নয়। অন্তত আগের মতো এক কাতারে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঈদের নামাজ পড়ে কোলাকুলি করে শুভেচ্ছা বিনিময়ের রেওয়াজকে এবারও নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। করোনা ভাইরাসের কারণে শুরু হওয়া অর্থনৈতিক সংকটে আগের মতো অনেকেই এবার পশু কোরবানি দিতে পারবে না। অনেকের পক্ষে এমনকি ঈদের দিন ভালো খাবারের আয়োজন করাও কষ্টকর হয়ে যাবে। অনেকের পক্ষে এমনকি সব থাকার সত্ত্বেও উৎসব করাটা অসম্ভব হয়ে উঠবে প্রিয়জন হারানোর কারণে। নতুন বাস্তবতায় এই ঈদ, তাই নতুন এক আহ্বান নিয়ে হাজির হয়েছে। এই ঈদুল আজহা সত্যিকার অর্থেই এক ত্যাগের ও সহমর্মিতার আহ্বান জানাচ্ছে। অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন পীড়িত, দুস্থ ও সংকটগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা বেশি। আর্থিকভাবে কিংবা স্বাস্থ্যগত দিক বিবেচনায় প্রায় প্রতিটি মানুষই কোনো না কোনোভাবে সংকটে। তাই এই ঈদুল আজহা সবাইকে পরস্পরের পাশে দাঁড়ানোর, পরস্পরকে ভালোবাসার আহ্বান নিয়ে হাজির হয়েছে। আর এই ভালোবাসা, সহযোগিতা ও সহমর্মিতা সবার প্রতি। এবারও আগের মতো ঈদের জামাত সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে, মুখে মাস্ক ব্যবহার করে অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু মনে রাখা জরুরি যে, করোনা ভাইরাসের কোনো টিকা বা কোভিড-১৯ এর সুনিশ্চিত চিকিৎসা মানুষ এখনো আবিষ্কার করতে পারেনি। তাই শারীরিক দূরত্ব মেনে চলার নীতিটি আগের মতোই অবশ্যপালনীয়। আশা করা যায়, সবাই সেই সতর্কতা মেনে চলে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন। করোনার সংক্রমণ এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে, আজ করোনায় (১৯৪) জনের মৃত্যু হয়েছে। তাই এবছরের কোরবানিতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন খুবই জরুরি। পশু জবাইয়ের পরে বর্জ্য দ্রুত পরিষ্কার ও চামড়া ব্যবস্থাপনায় যেনো কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সেবিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। সরকারী বিধিনিষেধ থাকলেও গ্রামে-গঞ্জে যেখানে সেখানে কোরবানি করা হয়, যা পরবর্তীতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে মানুষের জীবন যেমন দূর্বিষহ করে তোলে, তেমনি পরিবেশও নষ্ট হয়। এক্ষেত্রে যত্রতত্র নয়, একটা নির্দিষ্ট জায়গায় কম জনসমাগম ব্যবস্থায় পশু জবাইয়ের করবেন। এতে করে সংক্রমণ ঝুঁকি যেমন কমবে, তেমনি পরিবেশও ভাল থাকবে। কোরবানির চামড়া যথাযথভাবে সংগ্রহ ও সংরক্ষণের জন্য ক্রেতা ও বিক্রেতা পর্যায়ে সচেতনতা সৃষ্টি, মসজিদ, মাদরাসা, এতিমখানা এবং অন্যান্য স্থানে সংরক্ষিত কাঁচা চামড়ায় যথাসময়ে প্রয়োজনীয় লবণ প্রয়োগ নিশ্চিত করণের কাজ করবেন কমিটিগুলো। পচন রোধে কোরবানির দিন হতে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কাঁচা চামড়া দ্রুত সরানোর নির্দেশ প্রদান করেন কমিটির। সামাজিক উদ্যোগের পাশাপাশি সর্বস্তরের জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্ঠায় কোরবানির আগে ও পরে আশাশুনি উপজেলার সার্বিক পরিবেশ সুন্দর থাকুক, এই আমার প্রত্যাশা। সবাইকে ঈদ মোবারক।

Leave a Reply

     এই বিভাগের আরও খবর