আজ ১৯শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৩রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

করোনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রোগীদের সেবা দিচ্ছেন চিকিৎসক দম্পতি

মোঃ আইয়ুব হোসেন পক্ষী,বেনাপোল প্রতিনিধি : করোনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে করোনাকালীন সময়ে সন্মুখ যোদ্ধা হিসেবে নীরবে কাজ করে চলেছেন শার্শার এক চিকিৎসক দম্পতি। প্রচার বিমুখ এই দম্পতি সরকারি দায়িত্ব পালনের পরও নিজেদেরকে যুক্ত রাখেন জনকল্যাণে। করোনাকালিন সময়ে সকলে যখন বেসরকারি ক্লিনিক বন্ধ করে নিজেদেরকে গুটিয়ে রেখেছেন তখন প্রতিদিন তারা ভয়কে জয় করে মানব সেবা করে চলেছেন। সরকারি দায়িত্ব পালনকালে হাসপাতালে করোনা রোগির চিকিৎসা সেবা দিতে যেয়ে গতবছর করোনার প্রথম ধাপে এই দম্পতি করোনায় আক্রান্ত হয়। এরপর সুস্থ হয়ে তারা যেন নতুন জীবন ফিরে পেয়েছেন। দ্বিতীয় ধাপে ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট সীমান্ত এই জনপদে যখন মহামারি আকার ধারন করেছে তখন তারা তাদেরকে গুটিয়ে রাখতে পারেনি। সরকারি কর্মযজ্ঞ শেষে বিকেলে নিজস্ব ক্লিনিকে ওই সব রোগিদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে চলেছেন।

এতক্ষণ যাদের কথা বলছিলাম তারা আর কেউ নয়, এই জনপদের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও পরিচিত মুখ যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া সাতমাইল এলাকার জোহরা মেডিক্যাল সেন্টারের পরিচালক চিকিৎসক দম্পতি ডা. হাবিবুর রহমান হাবিব ও ডা. নাজমুন নাহার রানি।

সীমান্ত জনপদের এই অঞ্চলের প্রতিটি ঘরে ঘরে এখন করোনা উপসর্গ জ্বর, সর্দি, কাশি, গলাব্যাথা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভুগছেন অসংখ্য মানুষ। সাধারন মানুষের মাঝে একটা অজানা ভীতি কাজ করাই কেউই কোভিড-১৯ পরীক্ষা করাচ্ছে না। থেকে যাচ্ছেন পর্দার অন্তরালে। প্রত্যন্ত গ্রামের প্রতিটি ঘরে ঘরে এসব কোভিড উপসর্গের রোগিরা গ্রামের কোয়াক কিম্বা পল্লী চিকিৎসকদের চিকিৎসা নিচ্ছেন তথ্য গোপন করে। পরিস্থিতি বেসামাল হলে তখনই কেবল তাদেরকে আনা হচ্ছে কোনো ক্লিনিক কিম্বা বড় ডাক্তারের কাছে। ঠিক এই মুহূর্তে এই চিকিৎসক দম্পতি জীবনবাজি রেখে সকলের মন জয় করে কোভিড রোগি, গাইনী, প্রসূতি ও শিশুদের সেবা দিয়ে চলেছেন।

বাগআঁচড়া জোহরা মেডিক্যাল সেন্টারের পরিচালক ডা. হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, তার ক্লিনিকে রোগী আসলে প্রথমে তাদের করোনা টেষ্ট দেয়া হয়। পরবর্তীতে রিপোর্ট এর উপর ভিত্তি করেই তাদের চিকিৎসা দেয়া হয়। তিনি বলেন, করোনা প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় এখানে বিচক্ষনতার সাথে খুব যত্ন সহকারে রোগীদের সেবা প্রদান করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, তার ক্লিনিকে তিনি করোনা পজেটিভ রোগীদের জন্য দ্রুত অক্সিজেনের ব্যবস্থা করবেন। অক্সিজেন ব্যবস্থা চালু হলে শার্শার গ্রামাঞ্চলের করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেয়া খুব সহজ হবে।

Leave a Reply

     এই বিভাগের আরও খবর