আজ ১১ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৭শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

লকডাউনে অন্ধকার নেমে এসেছে স্বল্প আয়ের মানুষের জীবনে

মোঃ ইমরান হুসাইন, নিজস্ব প্রতিনিধি: লকডাউনে অন্ধকার নেমে এসেছে স্বল্প আয়ের মানুষের জীবনে।করোনা ভাইরাস শুধু মানুষের জীবন নিয়েই থেমে থাকছে না। কাঁচের আয়নার মত ভেঙ্গে যাচ্ছে মানুষের আকাশ ছোঁয়া স্বপ্ন, ফলে অন্ধকার নেমে এসেছে স্বল্প আয়ের মানুষের জীবনে। ঢাকা থেকে উচ্চ শিক্ষাই পড়া লেখা শেষ করে কেশবপুরে ফিরে এসেছেন জাকির হোসেন।সু- শিক্ষাই শিক্ষিত এ যুবক চাকুরী না পেয়ে, কেশবপুরের ডাক বাংলো রোডে গড়ে তুলেছেন প্রাইভেট সেন্টার, বছর দুই ধরে ছাত্র- ছাত্রীদের পড়িয়ে আসছেন। চার সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে ৬ সদস্যের সংসার নিয়ে বেশ স্বচ্ছভাবে চলছিল তার। কিন্তু বর্তমান করোনা কালীন সময়ে স্কুল কলেজ বন্ধ ও প্রাইভেট পড়ানোর উপর নিষেধাজ্ঞা জারির পর থেকেই জাকির হোসেন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কিভাবে চলবে তার সংসার? একদিকে প্রাইভেট সেন্টারের বেঞ্চ, ব্লাক বোর্ড আর কম্পিউটার। অন্য দিকে করোনা পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা বাড়ি থেকে বের হতে পারছে না। তাই তো করোনার এমন পরিস্থিতিতে স্বপ্ন ভেঙ্গে দিশেহারা হয়ে পড়েছে প্রাইভেট শিক্ষক জাকির।কেশবপুরে সু শিক্ষাই শিক্ষিত যুবক জাকিরের মত স্বল্প আয়ে সচল হয়ে চলার স্বপ্ন দেখা ভেঙ্গে গেছে থ্রি-হুইলার চালক বেলাল, গোলাম আলী ও মুনসুরের। ইঞ্জিন ভ্যান চালক ইসলাম, সামাদ, লিটন ও মফিজুর এরাই পড়েছে মহা-বিপদে। কখনো কেশবপুর টু চুকনগর আবার কখনো কেশবপুর টু ভান্ডারখোলা। বেলাল বলেন, দিনে দুই থেকে তিনটি টিপ পেত। তাতে প্রতিদিন তার রোজগার হতো সাত থেকে আট শত টাকা। গাড়ী কেনার সময় বাকী আছে ধারের টাকা। অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিল, সমিতির কিস্তি, ডাক্তার দেখানো, ঔষধ কেনাসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সবই করতে হয় তার আয়ের সাত থেকে আট শত টাকার মধ্যে। করোনা কালীন সময়ে লকডাউনে গাড়ী চলাচল বন্ধ। সাত সদস্যের পরিবারে মাত্র একজনই উপার্জন করত বেলাল। বর্তমানে বেলালসহ আয় নেই অনেকেরই। ভাঙতে বসেছে বেলালের গাড়ির মালিক হওয়ার স্বপ্ন।

Leave a Reply

     এই বিভাগের আরও খবর