আজ ১লা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৫ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

কেশবপুর উপজেলার মোমিনপুর গ্রামে বাশিঁর সুরে চাক বাধে মাহাতাবের শরীরে

মোঃ ইমরান হুসাইন, বার্তা কক্ষ: কেশবপুরে ৪২ বছরের মাহাতাব মোড়ল পেশায় মৌয়াল (মৌমাছির চাক থেকে মধু সংগ্রহ কারী)। এ ক্ষুদ্র কীটের কাজই হলো মধুর চাক বানানো। সাধারণত মৌমাছি জঙ্গলের গাছে চাক বানায়, পরিত্যক্ত নিরাপদ কোন জায়গা পেলেই গড়ে তাদের বাসা। কিন্তু মৌমাছি তাদের বাসা যদি কোন ব্যতিক্রম স্থানে হয় তাহলে তো কথাই নেই। মাহাতাবের বাঁশির সুর শুনে ঝাঁকে ঝাঁকে মৌমাছি এসে জড়ো হয় তার শরীরে। নিজের সমন্ত শরীরে মৌমাছির বাসায় রূপান্তরিত করেছেন তিনি। ভন ভন করে চারপাশেই উড়ে বেড়াচ্ছে হাজার হাজার মৌমাছি। মাহাতাব ছোট বেলা থেকেই এলাকার মধু সংগ্রহকারীদের সঙ্গে থেকে মাত্র ১২ বছর বয়সেই মৌমাছির চাক থেকে মধু সংগ্রহ করা শুরু করেছিলেন । এই অভ্যাস আর মৌমাছিদের সঙ্গে দারুণ সম্পর্ক গড়ে ওঠাই নিজ এলাকা কেশবপুর উপজেলার ১১ নং হাসানপুর ইউনিয়নের মোমিনপুর গ্রামে তাঁর নাম হয়ে উঠে মহাতাব মোড়ল ওরফে মাহাতাব মধু। আমাদের চারপাশে এমন অনেক মানুষই রয়েছেন, যারা দূর্দান্ত দুঃসাহসী। তিনি ওই গ্রামের মৃত কালাচাঁদ মোড়লের ছেলে। মাহাতাব মোড়ল ওরফে মাহাতাব মধু ২০ বছর ধরে নিজ এলাকার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় গিয়ে মধু সংগ্রহ করাই তার একমাত্র পেশা। এ পেশায় উপার্জিত অর্থ দিয়েই স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে চলে তাঁর সংসার। ছেলে বর্তমানে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে অস্টম শ্রেণির ছাত্র। মেয়ের বিবাহ হয়ে গেছে। স্ত্রী সন্তান নিয়ে বেশ ভালোই আছেন তিনি। সরেজমিনে তাঁর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ৪২ বছর বয়সী মাহাতাব মোড়ল ওরফে মাহাতাব মধু হাতে লম্বা এক বাঁশি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁর উঠানে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ব্যক্তিরা অধীর আগ্রহে দেখার জন্য অপেক্ষা করছে বাঁশির সুরে কিভাবে মৌমাছি তাঁর শরীরে বাসা (চাক) বাঁধে। এরপর তিনি এসে বাঁশি বাজাতে শুরু করলেই হাজার হাজার মৌমাছি তাঁর শরীরের দিকে আসতে শুরু করে। আহা কি সুন্দর করেই না বাঁশি বাজান তিনি। সে বাঁশির এক অচেনা সুরের আকর্ষণে ঝাঁকে ঝাঁকে তাঁর শরীরে হাজার হাজার মৌমাছি এসে বসতে শুরু করে। এক সময় পরিণত হয় মৌচাকে। আর তাঁর আশেপাশে থাকা লোকজন ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। অথচ তিনি কি-না হাজার হাজার মৌমাছি শরীরে নিয়ে দিব্যি দাঁড়িয়ে বাঁশি বাজাচ্ছেন ও সাংবাদিক সহ আগত মানুষের সাথে কথা বলছেন। এই বিশেষ কার্মকান্ডের কারণে এলাকায় তিনি মাহাতাব মধু নামে বেশ পরিচিতিও পেয়েছেন। ধারণা করা যায় একটি মৌমাছি শরীরে কামড় দিলেই সে স্থান ফুলে বালিশ হয়ে যায়। সেই সঙ্গে প্রচন্ড ব্যথাও হয়ে থাকে। এর পরও তিনি মৌমাছি শরীরে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন জীবন্ত মৌচাক হয়ে। মৌমাছির ঝাঁক তার পুরো শরীর নিজেদের দখলে নিয়ে নেয়। এমন অদ্ভুত ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজের বিষয়ে তিনি জানান, “আমার বয়স যখন ১২ বছর” তখন থেকেই আমি মজার ছলে মৌ চাক থেকে মধু সংগ্রহ করতে শুরু করি। গত ২০ বছর ধরে আমি মধু সংগ্রহকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছি। ‘প্রথমে একটি দু’টি মৌমাছি শরীরে নিতে নিতে এখন হাজার হাজার মৌমাছি আমার শরীরে বসে।এতে আমি অস্বস্তিকর কোন কিছুই উপলব্ধি করতে পারি না। প্রথমে এটা নিয়ে অদ্ভূত অনুভূতি হলেও ধীরে ধীরে এটা অভ্যাসে পরিনত হয়ে গেছে। বর্তমানে বিষয়টি আমার জন্য সহজ হয়ে গিয়েছে।’ মৌমাছিদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে হয়, কখনো আঘাত করলে কামড়িয়ে জাগায় ব্রেক করে দেবে। মৌমাছিদের নিয়ে তাঁর কোন সমস্যা ও হয়নি। কীভাবে তার শরীরে এতো মৌমাছি বসে সে বিষয়ে জানতে চাইলে মাহাতাব বলেন, ‘এর জন্য শরীরকে আগে থেকেই প্রস্তুত করতে হয়’। তিনি প্রথমে মধু সংগ্রহের বালতি বাজালেই অল্প কিছু মৌমাছি তার শরীরে এসে বসে। এরপর তিনি বালতির পরিবর্তে থালা বাজিয়ে মৌমাছিকে তার শরীরে বসাতে শুরু করেন। এখন তিনি বালতি, থালার পরিবর্তে বাঁশি বাজান আর সেই বাঁশির অচেনা সুরের আকর্ষণেই ঝাঁকে ঝাঁকে তাঁর শরীরে হাজার হাজার মৌমাছি এসে বসতে শুরু করে। এক সময় পরিণত হয় মৌচাকে।

Leave a Reply

     এই বিভাগের আরও খবর