আজ ৬ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৯শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ঢিলেঢালা নয় কঠোর নিয়ন্ত্রণ জরুরি

অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ   

দেশে নতুন করে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়ে যাওয়া নিয়ে আমরা সবাই উদ্বেগের মধ্যে আছি। এই পরিস্থিতি থেকে রেহাই পাওয়ার অন্যতম একটি কৌশল হিসেবেই লকডাউনের আদলে ব্যবস্থা নিতে আমরা সরকারকে পরামর্শ দিয়েছিলাম। এ ক্ষেত্রে আমরা দেশের প্রেক্ষাপটে আর্থ-সামাজিক অবস্থা, জীবন-জীবিকার বিষয়টিও মাথায় রেখেছিলাম। সে জন্যই আমরা একেবারে পূর্ণাঙ্গ লকডাউনের পথে যাইনি।

পূর্ণাঙ্গ লকডাউন দিতে পারলে করোনা সংক্রমণ দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে সফলতা দ্রুত আসত। সেটা এ দেশে খুব একটা বাস্তবসম্মত নয়। তাই মানুষকে নিরাপদে রাখার জন্য একটা কার্যকর ব্যবস্থা রাখতেই হবে। সেদিক থেকে সরকার যে ব্যবস্থা নিয়েছে সেটা কার্যকর করলেও আংশিক সাফল্য মিলবে।

আমরা আশা করছিলাম সাত দিনের যে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে তা মানুষ নিজেদের স্বার্থেই পালন করবে। আর সরকারের দায়িত্বশীল বিভাগগুলোও মানুষকে তা পালনে সহায়তা করবে। কিন্তু প্রথম দিন যেভাবে ঢিলেঢালা অবস্থা চোখে পড়ল এমনটা থাকলে সাফল্য পেতে আরো দেরি হবে। সেটা নিশ্চিয়ই আমরা কেউ কামনা করব না। সবারই উচিত এখন একেবারেই জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়া।

আমার তো মনে হয় জরুরি প্রয়োজন ছাড়াও প্রচুর মানুষ অযথাই সরকারের নির্দেশনা হেলাফেলা করছে। সাতটি দিন নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় থাকলে এর সুফল তো সবাই পাবে। অর্থাৎ সাফল্য পেতে হলে ঢিলেঢালা নয়, কঠোর নিয়ন্ত্রণ জরুরি।

আবার বিভিন্ন সংস্থার ওপর যে নির্দেশনা ছিল প্রথম দিনে সেটা সঠিকভাবে পরিপালনের চিত্র অন্ততপক্ষে দিনের ভাগে খুব একটা দেখা যায়নি। কিছু গণপরিবহন ছাড়া বাকি সবই যেন চলেছে। তা ঠেকাতে তেমন কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। এটা সরকারের নির্দেশনা কার্যকরকরণে সহায়ক নয়। আমরা আশা করি দায়িত্বশীল সংস্থাগুলো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপে ব্যবস্থা নেবে।

প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আমাদের প্রয়োজনীয় কাজগুলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে সেরে ফেললে নিষেধাজ্ঞার সময়ে বের হতে হবে না। নিধেষাজ্ঞার মধ্যে জরুরি সেবার পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা, হাসপাতালের প্রয়োজন বা ওষুধের প্রয়োজন ছাড়া তো কারোরই বাইরে থাকার কথা নয়। অন্যদিকে দিনের বেলায় যেসব প্রতিষ্ঠান সচল থাকবে তারা নিজ দায়িত্বে তাদের কর্মীদের যাতায়াতের জন্য পরিবহনের ব্যবস্থা করবে। এটা করলে তো আর বিশৃঙ্খলা হওয়ার কথা নয়। সরকারের নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের এগুলো দেখভাল করা জরুরি। তা না হলে সমস্যা তৈরি হবে।

অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ : করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সরকার গঠিত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভাপতি ও বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের চেয়ারম্যান।

নামায ও ইফতারের সময়সূচীঃ

সেহরির শেষ সময় - ভোর ৪:২১ পূর্বাহ্ণ
ইফতার শুরু - সন্ধ্যা ৬:২৮ অপরাহ্ণ
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:২৬ পূর্বাহ্ণ
  • ১২:০৬ অপরাহ্ণ
  • ৪:৩৪ অপরাহ্ণ
  • ৬:২৮ অপরাহ্ণ
  • ৭:৪৪ অপরাহ্ণ
  • ৫:৪১ পূর্বাহ্ণ

Leave a Reply

     এই বিভাগের আরও খবর