আজ ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৯শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

কেশবপুরে আমণ ধানের বাম্পার ফলন কৃষকের মুখে হাসি

মোঃ ইমরান হুসাইন,কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: কেশবপুরে আমণ ধানের বাম্পার ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকদের মুখে সোনালী হাসি ফুটেছে। কয়েকদিন আগে কৃষকরা তাদের মাঠের ধান কাটা শুরু করেছে। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও ধান কাটা কাজে ব্যস্ত রয়েছে। ইতিমধ্যে অনেক কৃষকরা ধান কেটে সুন্দর পরিবেশে ঘরে তুলেছে। এদিকে অধিকাংশ গ্রামেই মাঠের আমণ ধান মাটিতে শুয়ে পড়লেও তেমন কোন ক্ষতি হয়নি কৃষকদের, তবে ভালো রৌদ্র হওয়ায় মাটিতে পড়ে যাওয়া ধান শুকানোর পরে কাটতে পারছে কৃষকরা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার চলতি আমণ ধান মৌসুমে এ উপজেলায় ৮ হাজার হেক্টর জমিতে আমণ ধান চাষের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। জমিতে আমণ ধান চাষ করার জন্য ৪ হাজার হেক্টর বীজতলা তৈরী করেছিলো কৃষকরা। মৌসুমের শুরু থেকে আবহাওয়া ভালো ও জমিতে পানি সেচ দিতে হয়নি যার কারণে অতিরিক্ত টাকা খরচ হয়নি কৃষকদের। এ বছর বীজতলায় ধানের চারা নষ্ট হওয়ার কোন সংবাদ পাওয়া যায়নি। কৃষকরা আমণ ধান হিসেবে ব্রি ধান ৪৯, বিনা ধান ৭, ব্রি ধান ৩৪ ও অল্প সংখ্যক জামিতে কাটারি ভোগ জাতের ধানসহ বিভিন্ন জাতের ধানের চারা রোপন শুরু করেছিলো কৃষকরা। সরেজমিনে উপজেলার দোরমুটিয়া, মধ্যকুল, ত্রিমোহিনী, সাগরদাঁড়ী, চিংড়া, হাসানপুর, শ্রীফলা, প্রতাপপুর, শিকারপুর, দেউলি, বাগদা, ব্রহ্মকাটি, বালিয়াডাংগা, পাঁজিয়া, কলাগাছী, নারানপুর, গৌরিঘোনাসহ বেশ কয়টি গ্রামে ঘুরে দেখা গেছে পুরুষের পাশাপাশি নারীরা ধান কাটা কাজে ব্যাস্ত সময় পার করছেন। এ উপজেলায় প্রতি বছর আমণ ধানের বাম্পার ফলন হয়ে থাকে। দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা হলেও কেশবপুরে এখনও তেমন পরিস্থিতি না হওয়ায় কৃষকরা কোমর বেঁধে পুরাদমে মাঠে আমণ ধান রোপন করেছিলো। এ বছর অনেক কৃষকরা তাদের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী জমিতে চারা রোপন করেও থেকে যাওয়া চারা ন্যায্য মূল্যে বিক্রয় করতে পেরেছে বলে এলাকার কৃষকরা জানিয়েছে। উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে অধিকাংশ গ্রামে কৃষকরা আমণ ধানের আবাদ চাষ করেছে। প্রতি বিঘাতে ২৫ মণের বেশি ধান হবে বলে কৃষকরা ধারণা করেছে। সাতবাড়িয়া গ্রামের মৃত বাহাদুর খাঁ’র ছেলে সুরুত আলী খাঁ ও ব্রহ্মকাটি গ্রামের ইসলাম দফাদার সাংবাদিকদের জানান গত বছরের তুলনায় এবছরে বৃষ্টির পানি কম থাকায় ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রতি বিঘা জমিতে ১৩/১৪ হাজার টাকা খরচ করে প্রায় ২৫ মণ ধান পাবো বলে আমরা ধারণা করেছি। এছাড়া আমি সরদার হিসাবে পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও শ্রম হিসাবে কাজ দিয়ে থাকি। একই গ্রামের আতিয়ার সরদার জমিতে আমণ আবাদের চাষ করেছে। আতিয়ার বলেন ধানের বাম্পার ফলন দেখে আমি আনন্দে আত্মহারা হয়েছি। ব্রহ্মকাঠি গ্রামের ইসলাম সরদার, আলম সরদার, রামচন্দ্রপুর গ্রামের আলাউদ্দীন দফাদার, ওজিয়ার সরদার, হায়দার আলী গাজীসহ অনেক কৃষকরা জানান এবছরে বৃষ্টির পানি কম থাকলেও প্রতি বিঘাতে ২০/২৩ মণ ধান আশা করছি। বাজারের দরও ভালো। আমাদের প্রতি বিঘা জমিতে ধান রোপন শুরু থেকে ঘরে তোলা পর্যন্ত প্রায় ১৩/১৪ হাজার টাকা খরচ হলেও আনন্দ পাচ্ছি। জমিতে মটরের সেচ দিয়ে খরচ বেশী হলেও ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। মহিলা শ্রমিক ফতেমা বেগম, জোহরা বেগম, আকলিমা বেগম, জাহানারা বেগম, চায়না বেগম সাংবাদিকদের জানান, কর্মসূচির কাজ থেকে শুরু করে মাঠের সকল কাজে পুরুষের পাশাপাশি আমরাও কাজে নিয়োজিত হয়ে থাকি। তারা বলেন প্রতিদিন সকাল ৭ টা থেকে বেলা ১ টা পর্যন্ত ২শত টাকা করে শ্রমের মজুরি পায় ও দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত দেড়শত টাকা শ্রমের মজুরি আসে। আমরা গরীব ঘরের স্ত্রী হওয়ায় ঘরে বসে থাকতে পারি না। শ্রম দিয়ে অর্থ উপার্জন করে স্বামী সন্তানদের নিয়ে ভালই সুখে আছি। বাড়িতে বসে না থেকে কাজ করে খেটে খেয়েও মনের মাঝে একটু সুখ আনন্দ খুজে পায়। উপজেলা কৃষি অফিসার মহাদেব চন্দ্র সানা বলেন, কৃষি অফিস থেকে পরামর্শ নিয়ে বীজতলা তৈরী করায় চারা ভাল হওয়ায় সুন্দর ভাবে কৃষকরা তাদের জমিতে আমণ ধান রোপন করতে পারছে। এ ছাড়াও যে কোন সমস্যা সমাধানে কৃষি অফিস সব সময় কৃষকদের পাশে রয়েছে। প্রাকৃতিকভাবে কোন দুর্যোগ না হলে যথা সময়ে কৃষকরা তাদের মাঠের ফসল কেটে ঘরে তুলতে পারবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Leave a Reply

     এই বিভাগের আরও খবর