আজ ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৫শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

প্রতিশ্রুতি”ছোট্ট এক স্বপ্নের বাস্তবায়ন করলেন মানবিক পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান

ইব্রাহিম খলিল: প্রতিশ্রুতি”ছোট্ট এক স্বপ্নের বাস্তবায়ন করলেন মানবিক পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান পিপিএম (বার)। সাতক্ষীরা আশাশুনি থানার এএসআই মো: শাহজামাল দুর্ঘটনায় পতিত হয়ে নিহত হন। তার মৃত্যুর পর পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তার পরিবার অসহায় হয়ে পড়েন। দীর্ঘ কর্মজীবনে বৃদ্ধ বাবা-মায়ের জন্য বসবাস উপযোগী একটি বাসা তৈরি করতে পারেননি। তার মৃত্যুর পর জেলা পুলিশ সদস্যগণ সেখানে তাকে সমাহিত করতে গিয়ে তাদের মানবেতর জীবনযাপন দেখে জেলা পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমানকে জানান। বিষয়টি মানবিক সুপার শোনার পর অল্প সময়ের মধ্যে এই বয়স্ক বাবা মায়ের বসবাস উপযোগী বাসাটি জেলা পুলিশের অর্থায়নে তৈরির নির্দেশ দেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে যশোর জেলার শার্শা থানাধীন ঘোড়পাড়া গ্রামে গিয়ে নির্মাণাধীন ঘরের উদ্বোধন করেন মানবিক পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, পিপিএম (বার)। এসময় উপস্থিত ছিলেন শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ বদরুল আলম খান, ডিআই ১ মিজানুর রহমান, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ারা বেগম প্রমুখ। জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন পুলিশ বাহিনী যেকোনো প্রয়োজনে সকলের পাশে দাঁড়ায়। আমাদেরও দায়িত্ব তাদের ভালো-মন্দ দেখাশোনা করার। ছোট্ট বাসাটি হয়তো খুব বেশি কিছু নয় কিন্তু একজন সন্তান হিসেবে এই অসহায় বাবা মায়ের পাশে থাকতে পেরে মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। মহান আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে সবার বিপদে পাশে থাকার তৌফিক দান করুন। তালায় ডাক্তার ও সমাজসেবা অফিসারের স্বাক্ষর জাল করে প্রতিবন্ধি কার্ড তৈরী মোঃ আকবর হোসেন,সাতক্ষীরা তালা সংবাদদাতাঃ সাতক্ষীরা তালায় টাকার বিনিময়ে মেডিকেল অফিসার এবং সমাজসেবা অফিসারের স্বাক্ষর নকল করে প্রতিবন্ধি কার্ড তৈরীর জন্য সমাজসেবা অফিসে ফরম জমা করেছে একটি চক্র। তবে এর নৈ পথ্যে তালা দোহার গ্রামের গফ্ফার শেখ এর স্ত্রী ফিরোজা বেগমের সম্প্রতা পাওয়া গেছে বলে জানা যায়। সরজমিনে সমাজসেবা অফিসে গিয়ে দেখা যায়, এক ব্যক্তি প্রতিবন্ধি কার্ড নেওয়ার জন্য বাহিরে দাড়িয়ে আছে। দাড়ানোর কথা জিঞ্জাসাবাদে তিনি বলেন, আমার প্রতিবীন্ধ ফরম জমা করা হয়েছে কয়েকদিন হলো। এখনও পাইনি, বিষয়টি উপজেলা সমাজসেবা অফিসারকে জিঞ্জাসাবাদে তিনি জানান, তাদের ফরমে স্বাক্ষর জাল করার জন্য কার্ড করা সম্ভব হয়নি। তিনি আরও বলেন আমার স্বাক্ষরও জাল করা হয়েছে। ডাক্তারের স্বাক্ষর জাল কিনা সেই জন্য সমাজসেবা সুপারভাইজার এনামুল ইসলামকে সাথে নিয়ে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার অতনু কুমার ঘোষ এর নিকট গেলে, তিনি ১২ টি ফরমে তার সাক্ষর নকল করা হয়েছে বলে জানান। যে ফরম গুলো স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে তাহা হলো,তালা জালালপুর ইউনিয়নের গৌতমকাটি গ্রামের আতিয়ার রহমানের স্ত্রী ফুলঝুড়ি বেগম(৫৭),শ্রীমন্তকাটি গ্রামের লুৎফর রহমানের পুত্র মোঃ ইয়াছিন মোড়ল(১৭), জেঠুয়া গ্রামের সুশিল চক্রবর্তিও পুত্র বিকাশ চক্রবর্তি(৩৮),জেঠুয়া গ্রামের রামকান্ত অধিকারীর পুত্র গোকুল অধিকারী(৬১),আটুলিয়া গ্রামের সালাম মোড়লের স্ত্রী তাসলিমা বেগম(৪০), জেঠুয়া গ্রামের বিশ^জিৎ হালদারের পুত্র শান্ত হালদার(১৮), আটঘরা গ্রামের ভুট্্র মোড়লের স্ত্রী মর্জিনা বিবি(৩৮),জেঠুয়া গ্রামের পবিত্র কুমারের স্ত্রী ভারতি রানী(৪৭), একই গ্রামের শংকর বিশ^াসের পুত্র গোপাল বিশ^াস(২৪),সাধন কুমার ঘোষ এর পুত্র অর্পন ঘোষ(৮), দোহার গ্রামের শহর আলীর পুত্র ুসবুজ সরদার(২১) এবং ফয়েজ উদ্দিন এর পুত্র এনায়েত আলীর বিশ^াস। এছাড়া আরও কোন ফরম চোখের আড়ালে হয়েছে কিনা তাহা জানা যায়নি। তবে এর নৈ পথ্যে তালা দোহার গ্রামের গফ্ফার শেখ এর স্ত্রী ফিরোজা বেগমের সম্প্রতা পাওয়া গেছে বলে জানা যায়। আগামী নির্বাচনে ঐ এলাকার মহিলা মেম্বর প্রার্থি বলে তিনি জানান। এ বিষয়ে অভিযুক্ত ফিরোজা বেগমের কাছে মুঠো ফোনে জিঞ্জাসা বাদে তিনি জানান, শ্রীমন্তকাটি গ্রামের লুৎফর রহমানের নিকট হতে চা পান খাওয়ার জন্য ৫শত টাকা নিয়েছেন। ডাক্তার ও সমাজসেবা অফিসারের সই জাল করে কেন ফরম জমা দিয়েছেন এই বিষয়ে তিনি জানান, আমি কোন সই জাল করিনি। আগামীকাল অফিসে এসে সব জানাবো। এ বিষয়ে শ্রীমন্তকাটি গ্রামের লুৎফর রহমান বলেন, ফিরোজা বেগমকে আমি নিজেই চা পান খাওয়ার জন্য ৫শত টাকা দিয়েছিলাম। এ বিষয়ে সমাজসেবা অফিসার শেখ আব্দুল আওয়াল জানান, ফরমে আমার নিজের স্বাক্ষরের কোন অপশন না খাকলেও স্বচ্ছ, নিভূল ও যাচাই বাছাই করার জন্য এবং প্রকৃত প্রতিবন্ধিদের সনাক্ত করার জন্য নিজের একটি সীল ব্যবহার করেছি। এর পরেও ১২টি প্রতিবন্ধি ফরমে আমার স্বাক্ষরসহ ডাক্তারের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। যেই এর সাথে জড়িত থাক না কেন তাদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবী জানাচ্ছি। এ বিষয়ে তালা হাপসপাতালের ডাক্তার অতনু ঘোষ জানান, ১২টি ফরমে আমার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। তাহাছাড়া আমি প্রতিবন্ধি ফরমে স্বাক্ষর করার সময়, প্রত্যেক ব্যক্তিকে ভালোভাবে দেখে তার পরে ফরমে স্বাক্ষর করি। তাহা ছাড়া সে কোন ধরনের প্রতিবন্ধি সেটি ফরমে লিখে দেয়, যাহা নকল ফরমে নেই। এ বিষয়ে তালা হাসপাতালের টিএইচএ ডাক্তার রাজিব সরদার জানান, আমি এই সকল ফরম স্বাক্ষর করার জন্য আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার অতনু ঘোষকে দায়িত্ব দিয়েছি। যাতে কোন সমস্যা না হয়। তার পরেও স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

Leave a Reply

     এই বিভাগের আরও খবর