আজ ২১শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

হরিণাকুণ্ডুতে নতুন জীবন পেলো ৫ অতিথি পাখি

মাহফুজুর রহমান উদয়,হরিণাকুণ্ডু,ঝিনাইদহঃ

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলাতে অতিথি পাখি নিধনরোধে বিশেষ অভিজান পরিচালিত হয়েছে।হরিণাকুণ্ডু থানার ওসি সাইফুল ইসলামের নির্দেশে অভিজান পরিচালনা করেন এস আই দিপংকর।রবিবার(২৭নভেম্বর)বিকেল থেকে অভিযান পরিচালনা করা হয়।অভিযান চলাকালে হরিণাকুণ্ডু থানার জোড়াপুকুরিয়া গ্রাম থেকে পাখিসহ শিকারিকে আটক করে পুলিশ।শিকারির কাছ থেকে অতিথি পাখি উদ্ধার করে অবমুক্ত করা হয়।শিকারি মোতালেব উপজেলার কেনালপাড়ার বাসিন্দা রজব আলীর ছেলে।ভবিষ্যতে আর পাখি শিকার করবেনা এই মর্মে লিখিত মুচলেকা নিয়ে তাকে পরবর্তিতে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এসময় উপস্থিত একালাবাসীর উদ্দেশ্যে এস আই দিপংকর বলেন,প্রতি শীতে দূর-দূরান্ত থেকে শীতের পাখিরা আসে আমাদের দেশে। ভ্রমণপিপাসু মানুষ পাখি দেখতে ভিড় করে বিভিন্ন জলাশয়ে। পাখিদের কলকাকলি প্রকৃতির শোভা বাড়িয়ে দেয় বহুগুণে। আবাসিক ও পরিযায়ী মিলে আমাদের দেশে পাখির প্রায় ৬৫০ প্রজাতির। এর মধ্যে ৩৬০ প্রজাতি আবাসিক। বাকি ৩০০ প্রজাতি পরিযায়ী। সব পরিযায়ী পাখি শীতের সময় আসে না। ৩০০ প্রজাতির মধ্যে ২৯০টি শীত মৌসুমে আসে ও ১০টি প্রজাতি থেকে যায়।

আন্তর্জাতিকভাবে জলচর পাখির জন্য স্বীকৃত ২৮টি জায়গা বাংলাদেশের সীমানায় রয়েছে।শীত এলেই জলাশয়সহ বিভিন্ন হাওর, বাঁওড়, বিল ও পুকুরের পাড়ে চোখে পড়ে নানা রংবেরংয়ের নাম জানা,অজানা পাখির। অথচ বেআইনিভাবে শিকার হচ্ছে এসব পাখি। অতিথি পাখি আমাদের বন্ধু, আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের গর্ব, আমাদের প্রেরণা। এ পাখিগুলোকে অচেনা পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে আমাদের বন্ধুসুলভ আচরণ করা দরকার। এই পাখিগুলো রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন,বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী পরিযায়ী (অতিথি পাখি) পাখি হত্যার দায়ে একজন অপরাধীকে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে। একইভাবে কোনো ব্যক্তি যদি পরিযায়ী পাখির মাংস, দেহের অংশ সংগ্রহ করেন, দখলে রাখেন কিংবা ক্রয়-বিক্রয় করেন বা পরিবহন করেন, সে ক্ষেত্রে তার সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার আইন প্রচলিত রয়েছে। অতিথি পাখি নিধন এবং বাজারে বিক্রি নিষিদ্ধ জেনেও আইনের ফাঁক গলে এক শ্রেণির পেশাদার এবং শৌখিন শিকারি কাজগুলো করে চলেছে।
বাসস্থান সংকট, বিষটোপ ব্যবহার করে খাদ্য সংকট ও জীবন বিপন্ন করা, শিকার, পাচার ইত্যাদি কারণে আশঙ্কাজনক হারে আমাদের দেশে শীতে পাখি আসার সংখ্যা কমে যাচ্ছে।আপনারা সচেতন না হলে আইন প্রয়োগে খুব একটা সফলতা পাওয়া যাবে না। প্রশাসনের সঙ্গে আপনাদেরও সহযোগিতা করতে হবে।

Leave a Reply

     এই বিভাগের আরও খবর