আজ ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২০শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

পরিবেশ,জীবন ও জীবিকার উন্নয়নে মৌচাষ – প্রত্যাহ বার্তা

:: MIM PURE HONEY :: 

ফুল-ফল এবং মৌমাছির রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক। যেন একে অপরের সহযোগী। মৌমাছি পুষ্পিত ফুল থেকে মধু আহরণ করে,ফলে পরাগায়নের মাধ্যমে গাছ ফুলে ফলে আরও বিকশিত হয়।গাছ ফুল ও ফলের মতো মৌমাছি ও প্রকৃতির অংশ।

প্রকৃতির এই দান আমরা ইচ্ছে করলে অবহেলায় ফেলেও দিতে পারি আবার সযত্নে সংরক্ষণও করতে পারি।আমরা তাহলে কি করবো?
আমরা সকলেই আমাদের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে চাই।আর এই পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন বাড়তি আয়ের।

গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ যারা এখনো শুধুমাত্র করে নির্ভরশীল,তাদের  জন্য বেঁচে থাকার সংগ্রাম দিনে দিনে আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।সুতরাং বাড়তি আয়ের জন্য বিভিন্ন পথ আমাদের  খুঁজে খুঁজে বের করতে হবে। এ ক্ষেত্রে মৌ চাষের মাধ্যমে বাড়তি আয় নিশ্চিত হতে পারে। ইচ্ছা ও আগ্রহ থাকলে আমরা অনপকেই নিজেদের  বাড়িতে মৌ প্রকল্প গড়ে তুলতে পারি।কিন্তু প্রকল্প শুরু করতে গেলেই প্রথমে মাথায় আসে পুঁজির বিষয়টি।

অনেকের পক্ষে শুধুমাত্র পুঁজির অভাবের কারণে শেষ পযর্ন্ত কোন প্রকল্প গড়ে তোলা সম্ভব হয় না। অথচ মৌ-চাষের জন্য খুব বেশী পুঁজি বা জায়গার প্রয়োজন হয় না। আমাদের দেশের বিভিন্ন শষ্য ক্ষেতে, বাগান,বন-উপবনপ নানা ধরনের ফুল-ফল রয়েছে।বলা চলে প্রকৃতির এই দানই আমার প্রথম পুঁজি। মৌমাছি প্রকৃতির এই সকল উৎস থেকে মধু আহরণ করে আর আমরা তার সংরক্ষণ করব আমাদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটানোর জন্য।যাদের কোন পুঁজি বা জমিজমা নেই তাদের পক্ষেও সফলভাবে মৌ চাষ করা সম্ভব।আমাদের দেশের জনসংখ্যা দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। কিন্তু সে তুলনায় কাজের সুযোগ বাড়ছে না। 

কর্মহীন এই বেকার মানুষ গুলি চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।অনেকের জন্যই দুবেলা দু-মুঠো খাবার জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এর সাথে যোগ হচ্ছে নানা ধরনের রোগ-বালাই।অধিকাংশ কম আয়ের মানুষ আজ মারাত্মক অপুষ্টির স্বীকার। বিনা চিকিৎসায় অনেকে অকালে প্রাণ হারাচ্ছেন। এই প্রতিকূল অবস্থায় মৌচাষ খানিকটা হলেও আশার আলো জ্বালিয়ে রাখতে পারে। বাড়তি আয়ের কথাতো বলাই হলো,নিয়মিত মধু খেলে অপুষ্টি থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব।

বৈজ্ঞানিক নানা গবেষনায় এর সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে। মধুর মধ্যে রয়েছে নানা ভেষজ ও ঔষধি গুনাগুণ।বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ তৈরিতে মধু ব্যবহার করা হচ্ছে।অপুষ্টি রোধে ও চিকিৎসা ব্যয় কমাতে মধু আমাদের সাহায্য করতে পারে এবং তা আমাদের নিজেদের উৎপাদিত মধুতেই সম্ভব। 

আমাদের দেশের মোট জনগোষ্ঠীর এক-তৃতীয়াংশ হলো যুবক।এই যুব সম্প্রদায়ের বেশিরভাগ অংশ গ্রামে বসবাস করে।অথচ গ্রামে কর্মসংস্থানের অভাবের কারণে যুবকেরা আজ দারুণভাবে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। অনেকে কাজ বা চাকরির প্রত্যাশায় শহরে এসে শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়ে মাদকাসক্ত, সন্ত্রাসসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে।এই শহরমুখী প্রবণতা আমাদের দেশের উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করছে। বরং আমরা গ্রামেই তাদেরকে মৌচাষে সম্পৃক্ত করতে পারি। যুবকেরা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মৌ-খামার গড়ে তুলে আয়ের পথ সুগম করতে পারে। এর মাধ্যমে যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে একদিকে যেমন হতাশা দূর হবে অন্যদিকে একটি শক্তিশালী জাতি গঠনে সহায়ক হবে। 

আনান্দের কথা হলো ইতিমধ্যে অনেক যুবক মৌচাষে দারুন-ভাবে সাফল্য লাভ করেছে, তারা তাদের ভাগ্যের চাকা পরিবর্তন করে আজ সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। শুধু শহরগুলিতে নয় বাংলাদেশের গ্রামগুলিতেও নানাভাবে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।পরিবেশ যদি না বাঁচে তাহলে মানুষ কিভাবে বাঁচবে? নির্বিচারে গাছ কাটা হচ্ছে,অধিক শস্য উৎপাদনের লোভে ফসলের জমিতে মারাত্মক সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করা হোচ্ছে। ফলে জমির উবর্রতা শকৃতি দিন দিন কমে যাচ্ছে। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় মৌচাষ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। 

মৌমাছি ও অন্যান্য উপকারী পতঙ্গ দ্বারা পরাগায়নের মাধ্যমে অধিক ফল ও ফসল উৎপাদন সম্ভব। বর্তমানে উৎপাদন বৃদ্ধিতে শস্যে বিভিন্ন হরমোন প্রয়োগ করা হচ্ছে। আমরা এও দেখেছি পটল ক্ষেতে হাতের মাধ্যমে ফুলে-ফুল সংস্পর্শ করে প্রয়োজনীয় পরাগায়নের প্রক্রিয়া ঘটানো হচ্ছে। নিশ্চিত-ভাবে বলা যায় এই প্রক্রিয়া অস্বাভাবিক এবং এতে করে চাষীদের অনেক শ্রম ও সময় নষ্ট হচ্ছে।

আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশে মৌমাছির মতো উপকারী প্রাণির সংখ্যা বৃদ্ধি করা গেলে স্বাভাবিক পরাগায়ন বৃদ্ধি পাবে। বেশী বেশী মৌচাষ ফুল-ফল ও শস্যের স্বাভাবিক পরাগায়ণ বৃদ্ধি মাধ্যমে পরিবেশ ও জীবন রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। মৌচাষে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। মৌচাষে সাফল্য পেতে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে প্রশিক্ষন প্রদান করা হচ্ছে। 

প্রশিক্ষিত মৌচাষীদের অনেকেই এখন স্বাবলম্বী হয়েছে। আমরা মৌচাষে মানুষের এই সাফল্যকে ধরে রাখতে চাই। আমরা বিশ্বাস করি মানুষের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা-গুলির মাধ্যমে দেশ থেকে ক্ষুধা ও দারিদ্রের অবসান ঘটাতে সক্ষম হবে।

পাইকারী ও খুচরা খাঁটি মধু ক্রয়ের জন্য আজই যোগাযোগ করুন।

মীম পিওর হানি ০১৯১১৬৩৮৫০২

MIM PURE HONEY

SINCE – 2005

মাহমুদুর রহমান তুহিন।

প্রোগ্রাম ডিরেক্টর, হাঙ্গার ফ্রি ওয়ার্ল্ড। 

Leave a Reply

     এই বিভাগের আরও খবর