আজ ২৪ শ্রাবণ, ১৪২৭, ৮ আগস্ট, ২০২০

খুরুশকুল গিয়ে শুটকি দিয়ে ভাত খাবো: প্রধানমন্ত্রী

কক্সবাজার সদরের খুরুশকুলে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বড় আশ্রয়কেন্দ্র বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্প দেখতে যাবেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সেখানে যাব আর শুটকি দিয়ে ভাত খাব।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে গণভবন থেকে খুরুশকুল বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্প উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। উদ্বোধন শেষে জলবায়ু উদ্বাস্তু ৬০০ পরিবারের কাছে ফ্ল্যাটের চাবি হস্তান্তর করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ। সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. আহমদ কায়কাউস।
প্রধানমন্ত্রী তার উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, এই প্রকল্পের মাধ‌্যমে খুরুশকুলের চেহারা বদলে যাবে। এখানে স্কুল, মসজিদ, মাদরাসা, গির্জা ও প্যাগোডা গড়ে উঠবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না, মুজিব বর্ষে এটা হলো আমাদের প্রতিশ্রুতি। আজ ৬০০ উদ্বাস্তু পরিবারকে ফ্ল্যাটের চাবি হস্তান্তর করা হলো। বাকি যারা আছেন তারাও পর্যায়ক্রমে ফ্ল্যাট পাবেন।


খুরুশকুলে বাঁকখালী নদীর তীরে ২৫৩ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা এ বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্পকে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বড় আশ্রয়কেন্দ্র বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। খুরুশকূলে আলাদা একটা সুন্দর শহর গড়ে উঠবে উল্লেখ করে ফ্ল্যাট বুঝে পাওয়া জলবায়ু উদ্বাস্ত পরিবারের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আপনারা এতদিন যেভাবে ছিলেন কষ্টের মধ্যে আমি নিজে গিয়েছি, দেখেছি সেটা। এখন আপনারা সুন্দরভাবে বসবাস করতে পারবেন।
তিনি বলেন, আজকে যেই ঘরবাড়িগুলো করে দেওয়া হলো মনে রাখবেন এটা আপনাদেরই নিজের। সেভাবে যত্ন নিয়ে ব্যবহার করবেন। সুন্দরভাবে যাতে থাকে সেদিকে দেখবেন। এখানে নদীর কূল ধরে সবুজ বেষ্টনি করে দেওয়া হবে। কোনো ধরনের ঝড় জলোচ্ছ্বাসে যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং আপনারাও ব্যাপকভাবে একটু বৃক্ষরোপণ করবেন। পুকুর কেটে দেওয়া হয়েছে। আর তাছাড়া জীবন জীবিকার যেই সুযোগ আমরা সৃষ্টি করে দেবো। সেভাবেই সবাইকে পুনর্বাসন করতে চাই।


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, শুধু এখানে না, সারা বাংলাদেশেই আমরা কোথায় গৃহহীন, ভূমিহীন মানুষ আছে তাদের আমরা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমরা আশ্রয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে যেমন ঘর করে দিচ্ছি পাশাপাশি যাদের জমি আছে তাদের ঘর করে দেওয়ার জন্য গৃহায়ন তহবিল নামে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটা তহবিল করা আছে সেখান থেকে যেকোন প্রতিষ্ঠান টাকা নিয়ে ঘর করতে পারে। আর আমরা নিজেরাও আশ্রয়ন প্রকল্পের মাধ্যমেও যাদের জমি আছে, ভিটা আছে কিন্তু ঘর নাই তাদের ঘর করে দিচ্ছি বলেন তিনি।
বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, জাতির পিতার জন্মশতবর্ষে আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশে একটি মানুষও গৃহহারা থাকবে না। প্রত্যেকটা মানুষকে আমি যেভাবে পারি গরিবানা হালে হলেও একটা চালা করে দিলেও সেটা আমরা করে দেবো। এটাই আমাদের লক্ষ্য।
উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সে উপকারভোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। এতদিন বস্তির ঝুপড়ি ঘরে কষ্টের জীবন শেষে দালানে উঠতে পেরে আবেগাফ্লুত হয়ে পড়েন তারা। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কেঁদে দেন তারা। এই আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান উপকারভোগীরা।
এ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ২০টি পাঁচতলা ভবনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে বিমানবন্দর সম্প্রসারণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত জলবায়ু উদ্বাস্তু ৬০০ পরিবার নতুন ফ্ল্যাট পেল। কক্সবাজার সদরের খুরুশকুল ইউনিয়নের বাঁকখালী নদীর তীর ঘেঁষা বৃহৎ এ প্রকল্পে পর্যায়ক্রমে ৪ হাজার ৪৪৮টি পরিবার ফ্ল্যাট পাবে।
১৯৯১ সালের প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় ও জ্বলোচ্ছাসে কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। মহেশখালী কুতুবদিয়াসহ উপকূলের বিশাল এলাকা সমুদ্রে বিলীন হয়ে যায়। এতে গৃহহারা হয় হাজার হাজার মানুষ। এসব মানুষ জীবনের তাগিদে আশ্রয় নেয় কক্সবাজার শহরের বিমানবন্দরের পশ্চিমে বালিয়াড়ী ও ঝাউবাগান এলাকায়, যা পরবর্তীতে কক্সবাজার পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডে রূপান্তরিত হয়। যেখানে বর্তমানে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ বসবাস করছে। জলবায়ু উদ্বাস্তু এসব মানুষ ঝুকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস করে আসছিল। বিশ্বমানের পর্যটন শিল্প বিকাশ ও ভৌগোলিক গুরুত্ব বিবেচনায় কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হচ্ছে।


বিমানবন্দর সম্প্রসারণের লক্ষ্যে পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কুতুবদিয়া পাড়া, নাজিরাটেক এবং সমিতি পাড়া এলাকার বিপুল পরিমাণ ভূমি অধিগ্রহণ করে সরকার। অধিগ্রহণের আওতায় পড়া জমিতে ৪ হাজার ৪০৯টি পরিবার বাস করতো। ২০১১ সালে ৩ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজারে এক জনসভায় এসব জলবায়ু উদ্বাস্তু পরিবারের জন্য পুনর্বাসনের নির্দেশনা দেন। তারই প্রেক্ষিতে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে গ্রহণ করা হয় খুরুশকুল আশ্রয়ণ প্রকল্প, যার নাম দেয়া হয়েছে ‘শেখ হাসিনা আশ্রয়ণ প্রকল্প’। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে প্রথমে ৫ তলাবিশিষ্ট ১৯টি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এতে ৬০০ পরিবার নতুন ফ্ল্যাট পেল।

10 responses to “খুরুশকুল গিয়ে শুটকি দিয়ে ভাত খাবো: প্রধানমন্ত্রী”

  1. Hi there, after reading this amazing paragraph i am as well delighted to share my knowledge here with friends.

  2. SMS says:

    These are actually great ideas in concerning blogging.

  3. Like!! I blog frequently and I really thank you for your content. The article has truly peaked my interest.

  4. I always spent my half an hour to read this web site’s articles or reviews daily along with a mug of coffee.

Leave a Reply

Your email address will not be published.

     এই বিভাগের আরও খবর